পোস্টগুলি

নেত্রকোনা জেলার কবি হেলাল হাফিজ: আধুনিক বাংলা কবিতার দ্রোহ ও প্রেমের কণ্ঠস্বর

ছবি
  নেত্রকোনা জেলার  কবি হেলাল হাফিজ:  আধুনিক বাংলা কবিতার দ্রোহ ও প্রেমের কণ্ঠস্বর বাংলা কবিতার জগতে এমন কিছু কবি রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের শব্দের গভীরতা ও ভাবনার শক্তিতে কালজয়ী হয়ে উঠেছেন। হেলাল হাফিজ তেমনই একজন কবি, যিনি প্রেম, বেদনা, দ্রোহ এবং চেতনার সংমিশ্রণে বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁর রচিত কবিতা শুধু শব্দের খেলা নয়, বরং তা সময়ের সাক্ষী, আন্দোলনের প্রতিধ্বনি এবং ব্যক্তি ও সমাজের অন্তর্লীন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।   প্রারম্ভিক জীবন ও সাহিত্য যাত্রা হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতার প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং কৈশোর থেকেই কবিতা লেখায় মনোনিবেশ করেন।  হেলাল হাফিজ ১৯৬৫ সালে নেত্রকোণা দত্ত হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিদ্যালয়ের দেয়াল পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়।  ১৯৬৭ সালে তিনি নেত্রকোণা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তাঁর স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবার। কিন্তু, কলেজের পাঠ শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্বব...

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী - ঢাকা জেলার কীর্তিমান শিল্পী

ছবি
কথার কাগজ বাংলার সাহিত্য  বাংলাদেশের কীর্তিমানদের জীবনীমূলক গবেষণার ধারাবাহিক প্রতিবেদন জেলা- ঢাকা ব্যক্তির নাম - ইন্দ্রমোহন রাজবংশী লিখেছেন - ফারাহ জেহির   ঢাকার কীর্তিসন্তান ইন্দ্রমোহন রাজবংশী — এক জীবন্ত ইতিহাস বাংলার মাটিতে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেন, যাঁরা নিজের অস্তিত্বকে জাতির আত্মার সঙ্গে মিশিয়ে দেন। তাঁরা কেবল শিল্পী নন, একেকজন সময়ের কণ্ঠস্বর। ইন্দ্রমোহন রাজবংশী তেমনই একজন, যিনি লোকসংগীতকে শুধুই সুরের নয়, চেতনার এবং মুক্তির ভাষা করে তুলেছিলেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল গ্রামীণ বাংলার ধ্বনি, তাঁর গানে ছিল জাতির জাগরণ, আর তাঁর জীবনে ছিল প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের কথা। তিনি ছিলেন ঢাকার কীর্তিসন্তান, কিন্তু তাঁর গানের বাঁশিতে বাজত গোটা বাংলাদেশের প্রাণ। জন্ম ও শিকড় ইন্দ্রমোহন রাজবংশী জন্মেছিলেন ১৯৪৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, ঢাকার খিলগাঁও দাশেরকান্দি গ্রামে। তাঁর নামের মধ্যেই ছিল বাঙালিয়ানার গন্ধ, আর আত্মার ভিতরেই ছিল সংগীতের রক্তপ্রবাহ। রাজবংশী পরিবারটি পাঁচ পুরুষ ধরে লোকসংগীতের ধারক ও বাহক—তাঁর পিতা নবীনচন্দ্র রাজবংশী এবং মাতা পূর্ণচন্দ্র শশী দুজনেই ছিলেন সংগীতানুরাগী।...

লক্ষ্মীপুরের গর্বিত কীর্তিসন্তান, মঞ্চসাধনার মহারথী—রামেন্দু মজুমদার

ছবি
  জেলা- লক্ষ্মীপুর রামেন্দু মজুমদার লেখকের নাম- ফারাহ জেহির প্রকাশ কাল - ২৯ শে  এপ্রিল  লক্ষ্মীপুরের গর্বিত কীর্তিসন্তান, মঞ্চসাধনার মহারথী—রামেন্দু মজুমদার   জন্ম ও শৈশব: রামেন্দু মজুমদার জন্মেছিলেন ১৯৪১ সালের ৯ আগস্ট, লক্ষ্মীপুর জেলার এক সাধারণ পরিবারে। তবে তাঁর শৈশব ছিল বড়ই অসাধারণ এক উপলব্ধির পথচলা। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই তাঁর পরিবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়। নিজ গ্রামে হিন্দু পরিবার হিসেবে বসবাস করা হয়ে ওঠে বিপজ্জনক। বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, পরিবার আশ্রয় নেয় নোয়াখালীতে। এই জ্বলন্ত স্মৃতি তাঁর মনে গেঁথে দেয় একটি অদৃশ্য প্রতিজ্ঞা—অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর, মানবিক ঐক্যের পক্ষে বলার।   একজন শিশুর মনে যে দেশভাগ ও ধর্মীয় হিংসার ভয়াবহতা এইভাবে গেঁথে যায়, তা পরবর্তীতে তাঁর সাংস্কৃতিক আদর্শ ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে মৌলিক ভূমিকা রাখে। অন্য শিশুরা যেখানে খেলাধুলা ও পড়ালেখা নিয়ে মগ্ন, রামেন্দু তখনই প্রশ্ন করতে শিখেছিলেন—কে বাঁচবে, কে পুড়বে, কে হারাবে ঘর? এবং কেন?      কর্মজীবন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই নাটকের প...

ফাতেমা তুজ জোহরা - যার কণ্ঠে প্রাণ পায় নজরুলের গান

ছবি
  ফাতেমা তুজ জোহরা জেলা- জয়পুরহাট লেখকের নাম- নাঈমা পারভীন  প্রকাশকাল- ২৩ মার্চ ২০২৫ ফাতেমা তুজ জোহরা: যার কণ্ঠে প্রাণ পায় নজরুলের গান আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বহু গান রচনা করে গেছেন তাঁর জীবদ্দশায়। সেসব গান সব সময়ই বাঙালির হৃদয়ে মিশে আছে গভীরভাবে। তবে গানগুলোকে যাঁরা মানুষের হৃদয় অব্দি পৌঁছে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। নজরুল সংগীতের প্রসঙ্গ উঠলেই তাঁর নামটি উচ্চারিত হয় অবশ্যই। তার কণ্ঠেই যেন প্রাণ প্রায় নজরুলের গান। নজরুল প্রতিভা নিয়ে সঙ্গীতচর্চায় নিমজ্জিত থাকলেও সবধরনের গায়কীর পারদর্শিতা তাঁর রয়েছে। খুব ছোটবেলা থেকে গানের সাথে বেঁধে ফেলেন নিজেকে। প্রারম্ভিক জীবন:  ফাতেমা তুজ জোহরা তৎকালীন বৃহত্তর বগুড়া জেলার জয়পুরহাটে এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  বাবা মরহুম ডা. সৈয়দ ফরিদ উদ্দীন, মা মিসেস ফজিলেতুন্নেসা। বাবা সরকারি ডাক্তার হওয়াতে তার ছোটবেলা কেটেছে জয়পুরহাট সহ বিভিন্ন জেলা শহরে।  ফাতেমা তুজ জোহরা জয়পুরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। সেই সময় থেকে তিনি সঙ্গীত চর্চা শুরু করেন, পাশাপাশি অভিনয়ও ...

কুসুমকুমারী দাশ

ছবি
বাংলার সাহিত্য  কুসুমকুমারী দাশ জেলার নাম: বরিশাল লেখকের নাম : তানজীনা ফেরদৌস।  প্রারম্ভিক জীবন: কুসুমকুমারী দাশ একজন বাঙালি কবি। তার রচিত "আদর্শ ছেলে", যার প্রথম চরণ "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে", বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। কবির জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় কবি। জন্ম ও পরিবার: কবি কুসুমকুমারী দাশ বাকেরগঞ্জ জেলার বরিশাল শহরে ২১ শে পৌষ ১২৮২ বঙ্গাব্দে এক বিদ্যানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চন্দ্রনাথ দাস এবং মাতা ধনমাণি। চন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করায় গ্রামবাসীদের বিরোধিতায় "গৈলা" গ্রামের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে বরিশালে চলে আসেন। শিক্ষাজীবন: কুসুমকুমারী একটি পারিবারিক পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন। বরিশাল ব্রাহ্মসমাজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের হাই স্কুলে তিনি ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। এরপর বালিকাদের অভাবের জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে কুসুমকুমারীকে তার বাবা কলকাতায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে রেখে বেথুন স্কুলে ভর্তি করেন। একবছর পর ব্রাহ্মবালিকা বোর্ডিং-এ লাব...

সুমিতা দেবী

ছবি
বাংলার সাহিত্য  সুমিতা দেবী  জেলার নাম: মানিকগঞ্জ  লেখকের নাম : তানজীনা ফেরদৌস।  প্রারম্ভিক জীবন : সুমিতা দেবী। অভিনেত্রী। এদেশের চলচ্চিত্রের ‘ফাস্টলেডি’ খ্যাত অভিনেত্রী। এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হবার পর সেখানে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আসিয়া’ এবং ‘আকাশ আর মাটি’ দুটো ছবিরই নায়িকা হিসেবে সুমিতা দেবী’কে এ দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের ‘ফাস্টলেডি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সুমিতা দেবী ছিলেন স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক-বীর মুক্তিযোদ্ধা। সুমিতা দেবী ১৯৩৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, মানিকগঞ্জের দক্ষিণখল্লি গ্রামে, এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পারিবারিক নাম হেনা ভট্টাচার্য।  অভিনয় ও কর্মজীবন: পঞ্চাশের দশকের শেষভাগে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ ও ‘আকাশ আর মাটি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। ফতেহ লোহানীই তাঁকে ‘সুমিতা দেবী’ নামটি দেন। ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতির উচ্চশিখড়ে পৌছে যান এবং ছবির নাম ভূমিকায় অসামান্য অভিনয় করে চিরস্মরণীয...

কবি আমির হামজা

ছবি
বাংলার সাহিত্য  আমির হামজা।  জেলার নাম: মাগুরা লেখকের নাম : তানজীনা ফেরদৌস।  প্রারম্ভিক জীবন: কবি মো. আমির হামজা মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট গ্রামে ১৯৩১ সালের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইমারত সরদার আর মা আবিরণ নেছা। শিক্ষাজীবন : তিনি কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর ভর্তি হন শ্রীপুর মহেশ চন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর আর লেখাপড়া এগোয়নি। কবি বিবাহিত ছিলেন। তার ৬ ছেলে ও ৪ মেয়ে। সন্তানদের মধ্যে এক মেয়ে মারা গেছেন।   তার ছেলেদের মধ্যে মো. আসাদুজ্জামান বর্তমানে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মূলত তার চেষ্টায় কবির কাব্যগ্রন্থগুলো প্রকাশিত হয়। বইগুলো আসাদুজ্জামান দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে উপহার হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সাহিত্যকর্ম: জীবদ্দশায় কবি মো. আমির হামজা অনেক গান ও কবিতা লিখেছেন। ২০১৭ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বাঘের থাবা’ প্রকাশিত হয়। কবি জীবিত থাকতেই এই কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। সেখানে ৩...