কুসুমকুমারী দাশ
বাংলার সাহিত্য
কুসুমকুমারী দাশ
জেলার নাম: বরিশাল
লেখকের নাম : তানজীনা ফেরদৌস।
প্রারম্ভিক জীবন:
কুসুমকুমারী দাশ একজন বাঙালি কবি। তার রচিত "আদর্শ ছেলে", যার প্রথম চরণ "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে", বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। কবির জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় কবি।
জন্ম ও পরিবার:
কবি কুসুমকুমারী দাশ বাকেরগঞ্জ জেলার বরিশাল শহরে ২১ শে পৌষ ১২৮২ বঙ্গাব্দে এক বিদ্যানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চন্দ্রনাথ দাস এবং মাতা ধনমাণি। চন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করায় গ্রামবাসীদের বিরোধিতায় "গৈলা" গ্রামের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে বরিশালে চলে আসেন।
শিক্ষাজীবন:
কুসুমকুমারী একটি পারিবারিক পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন। বরিশাল ব্রাহ্মসমাজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মেয়েদের হাই স্কুলে তিনি ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। এরপর বালিকাদের অভাবের জন্য স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে কুসুমকুমারীকে তার বাবা কলকাতায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে রেখে বেথুন স্কুলে ভর্তি করেন। একবছর পর ব্রাহ্মবালিকা বোর্ডিং-এ লাবণ্যপ্রভা বসুর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করেন।প্রবেশিকা শ্রেণীতে পড়ার সময়েই ১৮৯৪ সালে তার বিয়ে হয় বরিশালের ব্রজমোহন ইনস্টিটিউশন-এর প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দ দাসের সঙ্গে। তারই অনুপ্রেরণায় কুসুমকুমারী সাহিত্য চর্চা চালিয়ে যান। বরিশালের ব্রাহ্মসমাজের সভা-উৎসব-অনুষ্ঠানে কুসুমকুমারী যোগদান করতেন। তিনি ১৩১৯ থেকে ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই, বরিশাল ছাত্র সংঘের সপ্তাহকালব্যাপী মাঘোত্সবের মহিলা দিবসের উপাসনায় আচার্যের কাজ করেছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এমন একটি স্বাভাবিক মর্যাদার অধিকারিণী হয়েছিলেন যে, শুধু মহিলাদের উৎসবে নয়, ব্রাহ্মসমাজের সাধারণ সভাতেও তিনি আচার্যের কর্মভার কাজ করেছেন।তিনি বরিশাল মহিলা সভার সম্পাদক ছিলেন (Barishal Women Society)।
সাহিত্যকর্ম:
ছোটবেলা থেকেই কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন কুসুমকুমারী। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, শিশুদের জন্য যে চিত্রশোভিত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছিলেন, তার প্রথম ভাগে কুসুমকুমারী রচিত যুক্তাক্ষরবিহীন ছোট ছোট পদ্যাংশ ছিল। তিনি সম্পাদক মনোমোহন চক্রবর্তীর অনুরোধে লিখেছেন "ব্রহ্মবাদী" পত্রিকায়। তার অল্প কিছু কবিতা প্রকাশিত হয়েছে "প্রবাসী" ও "মুকুল" পত্রিকায়। তিনি নিয়মিত পত্রিকা রাখতেন। কিন্তু অধিকাংশই পাওয়া যায়নি কারণ হয় সেগুলো হয় হারিয়ে গেছে নতুবা তিনি সেগুলো নষ্ট করেছেন। তার কবিতায় বার বার এসেছে ধর্ম, নীতিবোধ, দেশাত্মবোধ। কবিতা মুকুল (১৮৯৬) তার কাব্যগ্রন্থ। পৌরাণিক আখ্যায়িকা নামের একটি গদ্যগ্রন্থও তিনি রচনা করেন।
সম্মাননা:
"নারীত্বের আদর্শ" এক প্রবন্ধ প্রতিযোগীতায় কুসুমকুমারী স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি:
তখনকার যুগে একজন মেয়েকে কাঠখড় পুড়িয়ে নিজেকে তৈরি করতে হতো। পরিবার সহায় হলে সে মেয়ে অনেকদূর এগোতে পারতেন। তবুও কোথাও গিয়ে থেমে যেতে হতো পারিবারিক, পারিপার্শ্বিকতার চাপে পড়ে। কুসুমকুমারী দাশ ‘রূপসী বাংলা’–র কবি জীবনানন্দ দাশের মা । তিনি নিজেও একজন কবি ছিলেন।
‘আদর্শ ছেলে’ তাঁর বিখ্যাত পদ্য যা বাংলার ঘরে ঘরে পড়া হতো। এখনও সন্তানদের উদ্দীপ্ত করার জন্য এই কবিতার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। তাঁর প্রথম চরণ ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।’ কুসুম কুমারী দাশের কালজয়ী কবিতাটি এখনও পাঠকসমাজে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’র শেষে যে জীবনকথা রয়েছে, তাতে বলা হয়েছে জীবনানন্দ দাশ তাঁর মায়ের কাছ থেকে কবিতা ও প্রকৃতি–প্রীতি লাভ করেছিলেন। তিনি কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তাঁর মায়ের কাছ থেকেই। তাঁর জন্য জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
# প্রতিবেদন
#বরিশাল
# কুসুমকুমারী দাশ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন