ইনামুল হক

প্রারম্ভিক জীবন: 

ইনামুল হক ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতার নাম ওবায়দুল হক ও মাতার নাম রাজিয়া খাতুন।


শিক্ষাজীবন:

তিনি ফেনী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাক্রমে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি ১৯৭৬ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।


কর্মজীবন: 

ইনামুল হক ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে ১৯৭০ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৭৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৮৭ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।তিনি ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২ বছর প্রকৌশল অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


অভিনয় জীবন:

তিনি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।এই দলের হয়ে তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন, তার অভিনীত প্রথম নাটকটি ছিল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সৃজনীর ব্যানারে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’।


তার অভিনীত কিছু মঞ্চনাটক হল ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’। তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ছিল মুস্তফা মনোয়ার পরিচালিত ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’।তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী (১৯৮০), এইসব দিনরাত্রি (১৯৮৫), আয়োময় (১৯৮৮), আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১), এবং বৃহন্নলা (২০১৪)।


তিনি টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নির্জন সৈকতে, গৃহবাসী, মুক্তিযুদ্ধ নাটকসমগ্র, স্ট্রিন্ডবার্গ এর দু'টো নাটক, মহাকালের ঘোর সওয়ার, বাংলা আমার বাংলা ইত্যাদি।


সম্মাননা :

তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে অভিনয় করেছেন । তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। চারুকলায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে।

তিনি টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পুরস্কার আজীবন সম্মাননা (২০১২), স্বাধীনতা পুরস্কার প্রভৃতি লাভ করেন।


শ্রদ্ধাঞ্জলী:

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াসে বিভিন্ন আন্দোলনমুখী নাটকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন নাট্যচর্চাকে হাতিয়ার করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সৃজনীর ব্যানারে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করেন। গুণী শিল্পী ও অভিনয় জগতের উজ্জল নক্ষত্রের জন্য জানাই হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ফাতেমা তুজ জোহরা - যার কণ্ঠে প্রাণ পায় নজরুলের গান

লক্ষ্মীপুরের গর্বিত কীর্তিসন্তান, মঞ্চসাধনার মহারথী—রামেন্দু মজুমদার

তানভীর মোকাম্মেল